Posts

Showing posts with the label ভাবসম্প্রসারণ

ভাবসম্প্রসারণ: উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে তিনিই মধ্যম যিনি চলেন তফাতে |

উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে তিনিই মধ্যম যিনি চলেন তফাতে ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব : উত্তম ব্যক্তি ভালাে-মন্দ সবার সাথে চলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু মধ্যম ব্যক্তি উত্তম ও অধমের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে চেষ্টা করেন। সম্প্রসারিত ভাব : এ জগতে উত্তম, মধ্যম এবং অধম এ তিন ধরনের মানুষ রয়েছে। যারা প্রকৃত মহৎ তারা সমগ্রজীবন ধরে আপামর জনসাধারণের কল্যাণেই নিজেদের সমস্ত শক্তি, কর্ম ও চিন্তা নিয়ােজিত করেন। তারা সকল শ্রেণির লােকের সাথে মেশেন; মন্দদের সাথে মিশতেও কোনােরূপ সংশয় বা কুণ্ঠাবােধ করেন না। উত্তম যারা তারা আত্মশক্তিতেবলীয়ান, চরিত্র মহিমায় দেদীপ্যমান। উত্তম সত্যিকারের জননেতা এবং নতুনের বার্তাবাহী। তাদের চরিত্র মাধুর্যে নরাধমও নরােত্তম হয়ে ওঠে। যেমন- মহানবির (স) সংস্পর্শে এসে ‘‘আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের নরাধম ব্যক্তিরা শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়েছিল। মধ্যমরা নিজেদের ক্ষতি ও পতন সম্বন্ধে আশঙ্কিত। অপরদিকে তাদের বিচারে অধম হীন ও অপাঙক্তেয়। তাদের ভয়, মন্দের সংশ্রবে এলেই বিপদের সম্ভাবনা, মন্দেরা তাদের অনিষ্ট করবে। উত্তম ও অধমের নিকট থেকে মধ্যম একটা ব্যবধান রচনা করে আত্মরক্ষার্থে সদা সচেতন...

ভাবসম্প্রসারণ: দ্বার বন্ধ করে দিয়ে ভ্রমটারে রুখি সত্য বলে, ’আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি’

দ্বার বন্ধ করে দিয়ে ভ্রমটারে রুখি সত্য বলে, ’আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি’ ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব : পৃথিবীতে সত্য ও মিথ্যা পাশাপাশি অবস্থান করে। জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই মানুষ সত্য ও মিথ্যাকে চিনতে শেখে। ভুল-ভ্রান্তির ভয়ে মানুষ কর্মবিমুখ হলে জীবনে কখনও সাফল্য আসবে না। সম্প্রসারিত ভাব : সত্য সূর্যালােকের ন্যায় স্বতঃপ্রকাশ। সত্য মানব জীবনের পরম আরাধ্য বিষয়। কিন্তু এ সত্যের নাগাল পাওয়া সহজসাধ্য নয়। সত্য অন্বেষণের জন্য প্রয়ােজন গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও কঠোর সাধনা। কেননা অগণিত ভুল আর মিথ্যায় সত্য চাপা পড়ে থাকে। সত্যকে উপলব্ধি করতে হলে অন্তরকে কলুষমুক্ত করে সত্যকে সহজভাবে গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া সত্যকে পাওয়ার সহজ কোনাে পথ নেই। জীবনে বাস্তব অভিজ্ঞতার মানদণ্ডেই সত্য-মিথ্যার যাচাই হয়। এজন্য মিথ্যা ছলনার ভয়ে জগৎ ও জীবনবিমুখ হয়ে কেউ যদি কর্ম জীবনে পা না বাড়ায় তবে হয়তাে মিথ্যাকে ঠেকানাে যাবে, কিন্তু সত্যকে উপলব্ধি করা যাবে না। তাই মহামতি গ্যাটে বলেছেন, “সত্যকে ধরাে, প্রতারণায় অভ্যস্ত হয়াে না। ” ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রাখলে যেমন ঘরের ভেতর সূর্যালােক প্রবেশ করতে পারে না, তদ্রুপ আমরা...

ভাবসম্প্রসারণ: দণ্ডিতের সাথে দন্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার

দণ্ডিতের সাথে দন্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব : বিচারকের কাজ অপরাধীর শাস্তি বিধান করা। কিন্তু প্রকৃত বিচারক সে ব্যক্তি যে অপরাধীকে শাস্তি দিতেগিয়ে তার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। সম্প্রসারিত ভাব : ন্যায়-অন্যায় নিয়েই আমাদের কর্মজীবন। ন্যায়-নিষ্ঠা সর্বত্র সাধুবাদ পেয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, অন্যায়কারী হয় দণ্ডিত। কিন্তু বিচারের মাধ্যমে অপরাধীকে বুঝিয়ে দিতে হয় যে, অপরাধ নিন্দনীয়। ন্যায়বিচার ঘৃণা করে পাপকে, পাপীকে নয়। বিচারকের জন্য সে কথাই প্রযােজ্য। প্রকৃত বিচারক সমদর্শী, ন্যায় ও সত্যের জীবন্ত বিগ্রহ। তিনি সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হন না। তাঁর কাজ বড় দায়িত্বপূর্ণ। ন্যায় ও সত্যের মর্যাদা রক্ষার জন্য তিনি অপরাধীকে দণ্ডের আদেশ প্রদান করেন বটে, কিন্তু সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে দণ্ডাদেশ উচ্চারণ করতে তিনি দণ্ডিতের জন্য দুঃখ অনুভব করেন। তিনি মনে করেন, দন্ডিত ব্যক্তি তারই মতাে একজন মানুষ। কোনাে মানুষই অপরাধী হয়ে জন্মেনি। জন্মানাের পরই সে অপরাধ করে। হয়তাে রিপুর তাড়নায় অথবা লােভের বশবর্তী হয়েই সে এ কাজ করে। ব্যক্তি মানুষের অপরাধ প্রবণতার পেছন...

ভাবসম্প্রসারণ: যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন |

যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই,পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব : কোনাে বস্তুকেই তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়। অতি তুচ্ছ বস্তুর মধ্যেও লুকিয়ে থাকে বিস্ময়কর সম্ভাবনা। সম্প্রসারিত ভাব : পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে বিভিন্ন জিনিস দিয়ে সুশােভিত করেছেন। তন্মধ্যে অনেক জিনিস আকারে বড় আবার অনেক জিনিস আকারে খুবই ছােট। অনেক জিনিস মূল্যবান, আবার অনেক জিনিস আছে যার মূল্য কম বা মূল্যহীন বলে তুচ্ছজ্ঞান করা হয়। মানুষ সাধারণত বড় বড় বা মূল্যবান জিনিসের প্রতি মােহাবিষ্ট হয়ে পড়ে এবং ছােট ও নগণ্য জিনিসকে তুচ্ছজ্ঞান করে অবহেলার বস্তুতে পরিণত করে। তাই ঐ সব নগণ্য বা তুচ্ছ জিনিসগুলাে চিরকাল অবহেলায় ও অনাদরে থেকে যায়। আসলে তা উচিত নয়, কারণ অনেক ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ বস্তুর মাঝেও অনেক মূল্যবান বিষয় লুকিয়ে থাকতে পারে। বাইরের অবয়ব বা আকৃতি-প্রকৃতি দেখে কোনাে জিনিসের সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। বাহ্যিকভাবে কেউ দেখতে কুৎসিত বা কদাকার হলেও সে অতি সুন্দর মন বা হৃদয়ের অধিকারী হতে পারে। চকচকে বা ঝলমলে পাথর হলেই যে মূল্যবান হবে এমন কোনাে কথা নেই। মাকাল ফলের বাইরের দিকট...

ভাবসম্প্রসারণ: যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না |

যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব : এ পৃথিবীতে মানুষের চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। অনেক কিছু পাওয়ার পর আরও পাওয়ার জন্য মন ব্যাকুল সম্প্রসারিত ভাব : মানব জীবন অবিমিশ্র সুখের আকর নয়। তাতে দুঃখ আছে, বেদনা আছে, আছে নিপীড়িত আত্মার মর্মান্তিক হাহাকার। চাওয়া ও পাওয়ার দ্বন্দ্বে মানব জীবন ভরপুর। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত মানুষের চাওয়ার বিরাম নেই।পাওয়ার পরও মানুষের আকাঙক্ষার তৃপ্তি নেই। প্রাপ্ত বস্তুকে তুচ্ছজ্ঞান করে সে আরও পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়। মানুষের এ বৈশিষ্ট্য চিরন্তন। অনাদিকাল থেকে এ প্রবৃত্তি চলে আসছে। মানুষ জানে না তার পাওয়ার শেষ কোথায়। সীমাহীন পাওয়াকে বেশি করে চাইলেই যে পাওয়া যায় না, মানুষ বুঝেও তা বােঝে না। সােনার হরিণ ধরা যে মানুষের সাধ্যাতীত এ সত্য মানুষের বুদ্ধির অগােচর। তাই দিকে দিকে অশান্তি ও মনুষ্যত্বের তীব্র লাঞ্ছনা। চাওয়া ও পাওয়ার দ্বন্দ্বে মানব জাতি আজ দিশেহারা। মানুষ যেদিন তার সীমিত পাওয়াকে হৃদয় দিয়ে বরণ করতে সক্ষম হবে, সেদিন ঘটবে সমস্ত যন্ত্রণার অবসান। দূর হবে হৃদয়িক অবসাদ এবং স্তন্ধ হবে কবির ভাব সিন্ধু মন্থর করা বাণী...

ভাবসম্প্রসারণ: সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের খেলা, আশা তার একমাত্র ভেলা |

সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের খেলা,আশা তার একমাত্র ভেলা ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব : এ সংসার সমুদ্রে মানুষের জীবন প্রতিনিয়ত দুঃখ-দৈন্যে আবর্তিত হচ্ছে। এর মাঝে আশাই তাকে টিকিয়ে রেখেছে। আশা না থাকলে তার জীবন হয়ে পড়ত স্থবির। সম্প্রসারিত ভাব : একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়েই মানুষ এ পৃথিবীতে আসে। কবে তার এ নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাবেতা সে জানে না। তবু আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই, শেষ নেই জাগতিক নানা সুখ-স্বপ্নের। প্রতিনিয়ত স্বপ্নময় পরিকল্পনায় আমরা চাই সুখ, শান্তি, সম্পদ, সাফল্য। কিন্তু চাইলেই কি সব পাওয়া যায়? জীবনে দুঃখ আছে, দৈন্য আছে, আছে আশা ভঙ্গের হতাশা, আছে নিরবচ্ছিন্ন সুখ ভােগে নানা প্রতিবন্ধকতা। জীবনে প্রতিনিয়ত শান্তির সাথে অশান্তির, সুখের সাথে দুঃখের, সার্থকতার সাথে ব্যর্থতার নিরন্তর দ্বন্দ্ব কাজ করছে। তথাপি মানুষকে এ সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হয়।তার আশা, একদিন জীবন সুখময় ও আনন্দময় হয়ে উঠবে। বিক্ষুব্ধ সাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য যেমন প্রয়ােজন হয় জাহাজের, সংসার সাগরেও তেমনি সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কোনাে অবলম্বন দরকার। সংসারের এ অবলম্বন হচ্ছে মানুষের মনের আশা-আকাঙ্ক্ষ...

ভাবসম্প্রসারণ: জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর |

জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব : স্রষ্টার সন্তুষ্টি বিধানের একমাত্র পথ হচ্ছে তার সৃষ্ট জীবকে ভালােবাসা। সম্প্রসারিত ভাব : এ পৃথিবীর সব কিছুই নিরন্তর নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে যাচ্ছে। মানুষের প্রধানকর্তব্য হচ্ছে স্রষ্টার উপাসনা করা। বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন উপায়ে স্রষ্টার উপাসনা করা যায়। তন্মধ্যে স্রষ্টাকে পাওয়ার শ্রেষ্ঠপথ তার সৃষ্ট জীবকে ভালােবাসা। মানুষকে ভালােবাসার মাধ্যমে স্রষ্টাকে উপলব্ধি সহজতর হয়। প্রত্যেক সৃষ্টির মধ্যেইআল্লাহ বিরাজমান। এ সত্য প্রত্যেক মহাপ্রাণ মনীষী, ধর্মপ্রবর্তক, লােকহিতৈষী একবাক্যে স্বীকার করেছেন। বিধাতা গভীর।ভালােবাসায় এই সুবিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছেন। বিশ্বের সৃষ্টির মধ্যে যা কিছু রয়েছে তার প্রতি ভালােবাসা প্রকাশকরলে সৃষ্টিকর্তা মানুষের প্রতি খুশি হন। জীবের প্রতি ভালােবাসার পথ ধরেই স্রষ্টাকে খোঁজ করার নির্দেশনা রয়েছে।ধর্মীয়ভাবে। তাই মানুষের প্রথম কর্তব্য জীবে দয়া করা। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘জীব সেবাই ঈশ্বর সেবা। তাই জীব সেবা বাদ দিয়ে যদি কেউ ঈশ্বরের সেবা করতে যায়, ঈশ্বর তাতে সন্তুষ্ট হতে প...

ভাবসম্প্রসারণ: কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহিতে?

ভাবসম্প্রসারণ : কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহিতে? | বা কাঁটা বনের গোলাপই সত্যি কারের গোলাপ | বা সুখেতে আসক্তি যার আনন্দ তাহারে করে ঘৃণী, কঠিন বীর্যের তারে বাধা আছে সদ্যোগের বীণা। ভাবসম্প্রসারণ: কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহিতে? মূলভাব : মানব জীবন কুসুমাস্তীর্ণ নয়। অনেক দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে তাকে সুখের স্বর্গ রচনা করতে হয়। সম্প্রসারিত ভাব : Life is not a bed of roses.' অর্থাৎ ‘জীবন পুষ্পশয্যা নয়। অনেক কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে আমাদের সুখের স্বর্গ রচনা করতে হয়। জীবনের কোনাে মহৎ কর্মই ত্যাগ-তিতিক্ষা ও দুঃখ-কষ্ট ছাড়া সফল হয় না। সংগ্রামী মানুষের গলেই শােভা পায় বিজয় মাল্য। পথ দীর্ঘ দেখে পথিক যদি তার যাত্রা বন্ধ রাখে অথবা কিছুদূর গিয়ে ফিরে আসে তবে সে কোনােদিন গন্তব্য স্থানে পৌঁছতে পারবে না। সেখানে পৌছতে হলে তাকে পথের ক্লান্তি স্বীকার করতেই হবে। স্বীকার করতে হবে পথের সকল প্রতিকূলতা। জয় করতে হবে পথপ্রান্তের সব প্রতিবন্ধকতা। যেব্যক্তি পদ্ম তুলতে গিয়ে কাঁটার ভয়ে ফিরে আসে, সে ব্যক্তির পক্ষে পদ্ম আহরণ কর...

ভাবসম্প্রসারণ: গ্রন্থগত বিদ্যা আর পর হস্তে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়ােজন |

ভাবসম্প্রসারণ: গ্রন্থগত বিদ্যা আর পর হস্তে ধননহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়ােজন মূলভাব : গ্রন্থগত বিদ্যা আত্মস্থ না করে জ্ঞানী ভাবা আর পরের হাতে ধন রেখে সে ধন নিজের বলে জাহির করাঅর্থহীন। কারণ সে জ্ঞান বা ধন প্রয়ােজনে কোনাে কাজে আসে না। সম্প্রসারিত ভাব : মানবজীবনে বিদ্যা ও ধন উভয়েরই প্রয়ােজন রয়েছে। বিদ্যা ও ধন সাধনালব্ধ ফল। কিন্তু বিদ্যা গ্রন্থাশ্রয়ী এবং ধন পরিশ্রমলব্ধ, প্রয়ােজনের তাগিদে সীমাবদ্ধ। বিদ্যার প্রয়ােজন জ্ঞানচক্ষু ফুটানাের জন্য, আর জ্ঞানের বাহনহচ্ছে পুস্তক। এ পুস্তক থেকে শিক্ষার মাধ্যমেই ব্যক্তি হতে পারে আত্মনির্ভরশীল, সহ্যমী ও আদর্শবান। বিদ্যাকে গ্রন্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে মনে না করে বিদ্যানুশীলনের মাধ্যমে আমাদের আত্মমুক্তির পথ খুঁজতে হবে। বিদ্যা অর্জন করে শুধু বিশ্বজোড়া খ্যাতি লাভ কিংবা পন্ডিত হিসেবে পরিচিতি লাভের মধ্যে বিদ্বানের কোনাে সার্থকতা নেই। বরং অর্জিত বিদ্যারমাধ্যমে জীবনকে সুন্দর ও গতিশীল করার পাশাপাশি সমাজ ও দেশকে উন্নত করার কাজে ব্যবহার করলেই বিদ্যা স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হয়। তদ্রুপ অর্জিত ধন নিজের কাছে না রেখে অন্যের কাছে রেখে সে ধনের মালিকানা নিজের ...

ভাবসম্প্রসারণ: পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন, নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন |

ভাবসম্প্রসারণ: পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন, নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন। মূলভাব : আপনার উপকার হবে ভেবে যেজন অপরের অপকারে আত্মনিয়ােগ করে, পরিণামে সে নিজেই কষ্ট ভােগ করে। সম্প্রসারিত ভাব : মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে মানুষ পরস্পর পরস্পরের সহযােগী হয়ে বসবাস করে। একে অপরের কল্যাণ সাধন করাই মানুষের মানবিক ও নৈতিক ধর্ম। পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষের পার্থক্য হলাে-মানুষ শুধু নিজের কথা চিন্তা করে পৃথিবীতে বেঁচে থাকে না। মানুষকে তার চারপাশের জগৎ নিয়েও ভাবতে হয়। যে মানুষ সর্বদা অন্যের উপকার করার কথা ভাবে এবং নিজেকে সর্বদা অন্যের হিতার্থে ব্যাপৃত রাখে সে সমাজে সম্মানিত হয়। অন্যদিকে, মানুষ যখন নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় তখন সে অপরের ক্ষতিসাধনে তৎপর হয়। যে মানুষ সর্বদা অন্যের ক্ষতির চিন্তায় মগ্ন থাকে, সে সর্বদা হীনম্মন্য অবস্থায় থাকে। এতে তার চিত্তে শুদ্ধি আসে না বলে সে তার স্বীয় কর্মক্ষেত্রেও উন্নতি করতে পারে না। কেননা, মানুষের স্বার্থবুদ্ধি প্রাধান্য পেলে তার পরিণতি শুভ হয় না। অপরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নিজে লাভবান হওয়ার চেষ্টা অন্যায় কর্ম বলে বিবেচিত হয়। আর এ অন্যায় য...

ভাবসম্প্রসারণ: অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা তারে তৃণ সম দহে

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা তারে তৃণ সম দহে ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব : অন্যায়কারী এবং অন্যায় সহ্যকারী উভয়েই সম অপরাধে অপরাধী। সময়ের ব্যবধানে তাদের ধ্বংস অনিবার্য। সম্প্রসারিত ভাব : ভালাে-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, মানুষের আচরণগত বিপরীতধর্মী দুটি দিক। কেউ কেউ ব্যক্তি বা সমাজ জীবনের বৃহত্তর কল্যাণ ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ভালাে ও ন্যায় কাজ করে, আবার কেউ কেউ বিপরীতমুখী হয়। বস্তুত আমাদের সমাজে অন্যায়প্রবণ মানুষ সংখ্যায় কম হলেও তারা বৃহত্তর সুশীল সমাজকে জিম্মি করে রাখে। তারা অন্যকে অহেতুক উৎপীড়ন করে, অন্যের অধিকারে অন্যায় হস্তক্ষেপ করে, উচ্ছঙ্খল আচরণে সামাজিক শৃঙ্খলা নস্যাৎ করে। এরা সমাজের চোখে অন্যায়কারী এবং আইনের চোখে অপরাধী। এদের অপরাধ অবশ্যই দন্ডনীয়। কিন্তু মানুষ বিবেকবান হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অধিকারী হলেও অনেক সময় নানা কারণে দিনের পর দিন অন্যায় সহ্য করে যায়। এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সৎসাহস তাদের থাকে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের এ প্রতিবাদহীন নির্লিপ্ততা প্রকারান্তরে অন্যায়কারীকে আরও বেপরােয়া করে তােলে। দিন দিন বাড়ে তার শক্তি-...

ভাবসম্প্রসারণ: কত বড় আমি, কহে নকল হীরাটি তাই তাে সন্দেহ করি নহ ঠিক খাটি

» ভাবসম্প্রসারণ: কত বড় আমি, কহে নকল হীরাটি তাই তাে সন্দেহ করি নহ ঠিক খাটি / দেখিতে যা বড়,চক্ষে যাহা স্তূপাকার হইয়াছে জড়ো,তারি কাছে অভিভূত হয়ে বারে বারেলুটায়ো না আপনায়। কত বড় আমি, কহে নকল হীরাটি তাই তাে সন্দেহ করি নহ ঠিক খাটি ভাবসম্প্রসারণ ভাবসম্প্রসারণ: যা প্রকৃত, আসল বা খাটি পরিমাণ ও পরিধিতে তা সব সময় বড় নাও হতে পারে। আপন স্বরূপেই তা ভাস্বরথাকে। কিন্তু যা আসল নয় তাকে আসল হিসেবে প্রচার করতে হলে তার বাহ্যিক রূপ, আকার ও আকৃতিতে বড় ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হয়। তেমনি যে ব্যক্তি নিজেই নিজের আত্মপ্রচার করে তার অন্তঃসারশূন্য রূপটি এতে ফুটে ওঠে। জ্ঞানী-গুণী মানুষ নিজের গুণেই আলােকিত হয়। এর জন্যে নিজের গুণ, ক্ষমতা আত্মপ্রচারের প্রয়ােজন হয় না । আমাদের সমাজে এমন মানুষ আছে যারা নিজের হীনতা গােপন করার জন্যে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। এরা নকল হীরার মতাে।এ ধরনের মানুষ নিজের গৌরব ও আত্মপ্রচার নিজেই করে। কিন্তু জ্ঞানী-গুণী মনীষীরা কখনাে নিজেকে বড় বলে জাহিরকরেন না এবং বড়াই করেন না। নিজেদের গুণের মাধ্যমেই তাদের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ফুল যেমন নিঃস্বার্থভাবে সকলের তরেনিজেকে উৎসর্গ করে, তেমনি গুণী ম...

ভাবসম্প্রসারণ: সুজনে সুযশ গায় কুযশ ঢাকিয়া, কুজনে কুরব করে সুরব নাশিয়া

সুজনে সুযশ গায় কুযশ ঢাকিয়া কুজনে কুরব করে সুরব নাশিয়া ভাবসম্প্রসারণ ভাবসম্প্রসারণ : যারা চিন্তা চেতনায় সুন্দর ও কল্যাণের পূজারি তারাই সুজন। যাদের চিন্তা চেতনা অসুন্দর ও অকল্যাণের অনুসারী তারাই কুজন। সুজন অর্থাৎ ভালাে মানুষেরা সবসময় অন্যের ভালাে দিকের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন, মন্দ দিক নিয়ে তারা মাথা ঘামান না। কিন্তু কুজন অর্থাৎ মন্দলােক সবসময় অন্যের ভালাে দিকের পরিবর্তে মন্দ দিকের প্রতি বেশি নজর দিয়ে থাকে। প্রাত্যহিক জীবনাচরণের মাধ্যমে মানুষ নিজস্ব মানসিকতারই প্রকাশ ঘটায় । এদিক থেকে ভালাে ও মন্দ— এ দুই ধরনের মানুষই আমাদের চোখে পড়ে। যাঁর মানসিকতা ভালাে তিনি স্বভাবতই অন্যের ভালাে দিকটিই খুঁজে বের করেন। অন্যের মন্দ দিক খুঁজে বের করে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টা তিনি কখনােই করেন না। অন্যদিকে মন্দ ব্যক্তি কখনােই অন্যের ভালাে দিক খুঁজে পায় না। বরং ভালাে দিকটাকে ঢেকে রেখে অন্যের মন্দ দিক প্রচারেই তার আগ্রহ বেশি। এ কাজে সে খুঁজে পায় বিকৃত এক আনন্দ। অন্যের ভালাে কাজ ও তার কাছ থেকে প্রশংসার পরিবর্তে নিন্দাই পায় । কিন্তু এটুকু সে বুঝতে পারে না। অন্যের দোষ খুঁজে বের করে তাকে...

ভাবসম্প্রসারণ: সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই |

সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই উক্তিটি মধ্যযুগ আমলের। মধ্যযুগের কবি বড়ু চণ্ডীদাস উচ্চারণ করেছিলেন বাঙালি জাতির এমনকি মানব-ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক বাণী- 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’ সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব: মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। মানুষের নেই কোনাে জাতিভেদ এবং মানুষের কোনাে জাতিভেদ থাকতে পারে না। সে যে দেশেরই হােক না কেন, যে রঙেরই হােক না কেন তার একটিই পরিচয়— সে মানুষ। সম্প্রসারিত ভাব: মানুষকে তার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বলে ঘােষণা দিয়েছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে রাখেননি কোনাে ভেদাভেদ, রাখেননি কোনাে বৈষম্যের পার্থক্যরেখা। কিন্তু শ্রেষ্ঠ জীব মানুষই সৃষ্টি করেছে নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ, ঘৃণ্য জাতিভেদ, বিভিন্ন বৈষম্য। সেই আদিমকাল থেকেই এই মানুষে মানুষে সংঘাত, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন জাতি, ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রের। কিন্তু মানুষ তার বুদ্ধি ও মেধা দিয়ে এসব ভেদাভেদ মুছে ফেলে দিয়ে বার বার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। সৃষ্টিকর্তা মানুষের ভেতর দিয়েছেন অসীম শক্তি, সাহস ও মেধা। এই মেধা...

ভাবসম্প্রসারণ: কালাে আর ধলাে বাহিরে কেবল ভিতরে সবারই সমান রাঙা |

কালাে আর ধলাে বাহিরে কেবল ভিতরে সবারই সমান রাঙা ভাবসম্প্রসারণ (৩০০ শব্দ)। উপযুক্ত শ্রেণীসমূহ: ৬,৭,৮,৯,১০ কালাে আর ধলাে বাহিরে কেবল ভিতরে সবারই সমান রাঙা ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব : বিশ্বব্যাপী বিশাল জনগােষ্ঠীর প্রধান পরিচয় মানুষ হলে বাহ্যত এদের মধ্যে রয়েছে নানান পার্থক্য। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সংস্কৃতি ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে মানুষের এ বাহ্যিক পার্থক্য বিদ্যমান। কিন্তু বাহ্যিক এ পার্থক্য থাকলেও সকল মানুষের দেহে প্রবাহিত লাল রক্ত সকল মানুষের অভিন্ন মহিমাকে প্রকাশ করে। সম্প্রসারিত ভাব : জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গােত্র ইত্যাদি মানুষের বাহ্যিক পরিচিত প্রদান করে। যেমন: কেউ হিন্দু, কেউ মুসলিম, কেউ চাকমা, কেউ মারমা, কেউ কালাে, কেউ সাদা ইত্যাদি। কিন্তু এসবের উর্ধ্বে মানুষের একটাই পরিচয় সে ‘মানুষ'। সবারই ধমনিতে বইছে। একই রঙের রক্ত। অথচ বাহ্যিক পার্থক্য জন্ম দিচ্ছে মানুষে মানুষে সম্প্রদায়গত হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি। এসব কারণে পৃথিবীব্যাপী বিরাজ করছে অস্থিরতা। বর্ণের কারণে কৃষ্ণাঙ্গ আঘাত করছে শ্বেতাঙ্গকে, শ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গকে, ধর্মের কারণে সংঘটিত হচ্ছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারা...

ভাবসম্প্রসারণ: শুধাল পথিক, সাগর হইতে কী অধিক ধনবান? জ্ঞানী বলে, 'বাছা, তুষ্ট হৃদয় তারাে চেয়ে গরীয়ান' |

শুধাল পথিক, সাগর হইতে কী অধিক ধনবান? জ্ঞানী বলে, 'বাছা, তুষ্ট হৃদয় তারাে চেয়ে গরীয়ান' ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব : পরিতুষ্ট হৃদয়ই মানুষের আনন্দের প্রকৃত উৎস। মানবজীবনের চাহিদা অসীম । কিন্তু যে মানুষ অল্প প্রাপ্তিতেই সন্তুষ্ট থাকে সে-ই সবচেয়ে সুখী ও সমৃদ্ধ মানুষ। ফলে প্রভূত সম্পদশালী নয় বরং পরিতৃপ্ত হৃদয়ের মানুষই অধিকতর গৌরবের অধিকারী। সম্প্রসারিত ভাব : মানবসমাজে সাধারণত বাহ্যিক আড়ম্বর দেখেই ধনী-গরিব নির্ধারণ করা হয়। যে ব্যক্তি যত বেশি ধনের অধিকারী তাকে তত বেশি ধনী বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু মনের দিক থেকে পরিতৃপ্ত না হলে প্রভূত ধনসম্পদও মানুষকে সুখী করতে পারে না। বরং ধনীর ধনের চাহিদা দিনে দিনে এত বেশি বৃদ্ধি পায় যে, সে সবসময় অপ্রাপ্তির কষ্টে ভুগতে থাকে। ফলে জীবনে যে প্রকৃত গভীরতর আনন্দ আছে ধনী ব্যক্তি তা বুঝতেই পারে না। অন্যদিকে যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে মানুষের সব চাহিদা পূর্ণ হয় না এবং যে আপন প্রাপ্তি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে তাকে দুঃখ ও হতাশা কখনাে ভারাক্রান্ত করে না। না পাওয়ার বেদনায় কাতর হয় না বলে সে জীবনের আনন্দকে পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারে। তাই অতৃপ্ত ধনবানের চে...

ভাবসম্প্রসারণ: বিশ্রাম কাজের অঙ্গ এক সাথে গাঁথা নয়নের অংশ যেমন নয়নের পাতা |

বিশ্রাম কাজের অঙ্গ এক সাথে গাঁথা নয়নের অংশ যেমন নয়নের পাতা ভাবসম্প্রসারণ ভাবসম্প্রসারণ : সুন্দর পৃথিবীতে কর্মমুখর জীবনের জন্যে পরিশ্রম ও বিশ্রাম দুটোই অপরিহার্য। এ যেন চোখ আর চোখের পাতার মতাে একটি অন্যটির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। পরিশ্রমের মাধ্যমেই জীবনে সফলতা আসে আর বিশ্রাম কাজের শক্তি জোগায়। জীবনে সাফল্য পেতে হলে মানুষকে বহুবিধ কাজ করতে হয়। কঠোর পরিশ্রম ও কর্মসাধনাই একমাত্র পথ, যা মানুষের জীবনকে সার্থক করে তুলতে পারে। আর পরিশ্রম করার শক্তি ও প্রেরণা আসে বিশ্রামের অবকাশ থেকে। জীবনকে সার্থক করে তুলতে পারে। ফুলের পাপড়ি ছুঁয়ে উড়ে বেড়ায় যে প্রজাপতি, সে এক সময় ডানা গুটিয়ে নিশ্চল হয়ে বসে। অন্তহীন নীলিমায় উড়ে বেড়ানাে অবাধ বিহঙ্গা নেমে আসে মাটির বুকে, খানিকটা জিরিয়ে নেয়। যে মানুষটি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে গাঁইতি চালিয়ে পাথর ভাঙে, সে হাতিয়ার ফেলে দু দণ্ড দাঁড়ায়। এ যে ক্ষণিক বিরতি। এ যে এতটুকু বিশ্রাম, এ তাে শুধু ক্লান্তি উপশম নয়, নতুন কর্মপ্রেরণায়, নবউদ্যমে উজ্জীবিত হয়ে পরবর্তী কাজের জন্যে প্রস্তুত হওয়া। পরিশ্রম ব্যতীত সময়টুকু হলাে অবকাশ । কাজ জীবনে আনে সমৃদ্ধি। আর বিশ...

ভাবসম্প্রসারণ: তৃষ্ণার জল যখন আশার অতীত হয় মরীচিকা তখন সহজে ভােলায় |

তৃষ্ণার জল যখন আশার অতীত হয় মরীচিকা তখন সহজে ভােলায় ভাবসম্প্রসারণ ভাবসম্প্রসারণ : প্রত্যেক মানুষেরই বেঁচে থাকার জন্যে কিছু মৌলিক চাহিদা থাকে। এ সীমিত চাহিদাই যখন অসীম ও অবাধ্য হয়ে যায় তখন মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ফলে ভ্রান্তির ছলনায় মানুষ সহজেই প্রতারিত ও আশাহত হয়। তৃষ্ণার সময় জল ছাড়া যেমন মানুষ বাঁচে না, তেমনি অন্ন, বস্ত্র আর আশ্রয় ছাড়া মানুষের পক্ষে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাও অসম্ভব । তাই এ প্রয়ােজনটুকু নিবারণে মানুষ নিরন্তর সংগ্রাম করে চলে। কিন্তু তারপরও যদি সে ব্যর্থ হয়, তখন মিথ্যে মায়ায় বার বার ভুল করে । এ যেন তপ্ত মরুভূমিতে মরীচিকার পেছনে ছুটে বেড়ানাের মতাে। মরুভূমির চারদিকে শুধু বালি আর বালি। কোথাও কোনাে জলাশয় থাকে না। দু-একটা কাঁটা গুল্ম এবং কাটাজাতীয় গাছ ছাড়া জলের অভাবে কোনাে গাছপালাই সেখানে জন্মাতে পারে না। অথচ এ মরুভূমি পথিককে দেখায় জলের লােভ। তৃষ্ণার্ত পথিক যখন তপ্ত বালির বুকে দেখে আলােকরশ্মির প্রতিসরণ তখন সেটাকে জল ভেবে আকুল হয়ে ছুটে যায়। জল পানের আশায় এভাবে সে মরুভূমির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ায় মিথ্যে মরীচিকার মায়া...

ভাবসম্প্রসারণ: সেই ধন্য নরকুলে লােকে যারে নাহি ভুলে, মনের মন্দিরে নিত্য সেবে সর্বজন |

সেই ধন্য নরকুলে লােকে যারে নাহি ভুলে মনের মন্দিরে নিত্য সেবে সর্বজন ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব : কর্মই মানুষকে মহৎ করে তােলে। এ জগতে অনেকে তাদের মহৎ কর্ম, ভালােবাসা ও অধ্যবসায় দ্বারা স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। মরেও তারা অমর। সম্প্রসারিত ভাব : অফুরন্ত সৌন্দর্যের ক্ষণস্থায়ী এক মধুর নিকুঞ্জ আমাদের এ পৃথিবী। ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে মৃত্যু-এক অনিবার্য সত্য। মৃত্যুর ধ্বংসলীলার মাধ্যমে মানুষের নিথর দেহের বিলুপ্তি ঘটলেও তার মহৎ কর্মের সুরভী কখনাে শেষ হওয়ার নয়। তার এ মহৎ কর্ম যুগ থেকে যুগান্তরে ঘুরে বেড়ায় মহাকালের ঘূর্ণনচাকায়। কাজেই মানুষ যদি যথার্থ কাজ করে যেতে পারে, তবে মৃত্যু তার নশ্বর দেহ নিশ্চিহ্ন করে দিলেও তার কর্মের সুফল ও খ্যাতির আলােকবর্তিকায় সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠে পার্থিব জগৎ। কর্মগুণে তিনি চিরঞ্জীব হয়ে থাকেন মানুষের মণিকোঠায়। মানব মনের মন্দিরে প্রতিটি মানুষ তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে থাকে। তাই কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, সমাজসেবী, রাষ্ট্রনায়ক প্রভৃতি প্রতিভাবান ব্যক্তিরা যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে রয়েছেন। পক্ষান্তরে, যারা নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন; সমাজ,...

ভাবসম্প্রসারণ: মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই

মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই ভাবসম্প্রসারণ ভাবসম্প্রসারণ : মানুষ মরণশীল। মানবজীবনে মৃত্যুই সবচেয়ে বড় ও চিরন্তন সত্য। কিন্তু মানুষ এ চিরন্তন সত্য মেনে নিতে রাজি নয়। বরং এ সুন্দর ধরণীতে সে বেঁচে থাকতে চায় মৃত্যুহীনভাবে। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। পৃথিবীর ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করে মানুষ নিজেদের কল্যাণে ও ভােগের জন্যেই পৃথিবীর প্রতিটি উপাদানকে ইচ্ছেমতাে কাজে লাগায়। পৃথিবীর নদ-নদী, প্রকৃতির প্রতি রয়েছে মানুষের দুর্বার আকর্ষণ। সত্যিই পৃথিবী হচ্ছে। মায়া ও মােহের স্থান। এ বিশ্বচরাচরের নৈসর্গিক শােভা দেখে মানুষ আত্মহারা হয়, গভীরভাবে ভালােবেসে ফেলে এ ধরণীকে। এ ধরণী তার সৌন্দর্য দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে মানুষকে। তাই মানুষ এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে চায় না, অনন্তকাল এর সৌন্দর্য উপভােগ করে বেঁচে থাকতে চায় । মানুষ জানে এ পৃথিবীতে সে চিরস্থায়ী নয় বরং ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু তবুও মানুষ এ ক্ষণস্থায়ী জীবনে পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে গড়ে তােলে প্রাসাদ, অট্টালিকা ও ঐশ্বর্য। সৌন্দর্যের ফাঁদ এ পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এ ফাঁদে ধরা দেয় সৌন্দর্যপিপাসু মান...